লিওনেল মেসি কি ২০২৬ সালের বিশ্বকাপে খেলবেন? এই প্রশ্নটি করা হয়ে আসছে ২০২২ সালে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের সবশেষ আসরের পর থেকেই। ইতোমধ্যে বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা নিশ্চিত করে ফেলেছে আগামী বছরের বিশ্বকাপে খেলা। তাই পুরনো প্রসঙ্গটি ফের এসেছে আলোচনার খোরাক হয়ে।
১৪ ম্যাচে ৩১ পয়েন্ট নিয়ে দক্ষিণ আমেরিকা অঞ্চলের বিশ্বকাপে বাছাইপর্বের পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে আছে আর্জেন্টিনা। গতকাল বুধবার ব্রাজিলের বিপক্ষে নামার আগেই ফুটবলের সর্বোচ্চ মঞ্চের টিকিট পাওয়ার সুখবর মিলে যায় লিওনেল স্কালোনির শিষ্যদের। এরপর চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের নিয়ে স্রেফ ছেলেখেলা করে তারা। ঘরের মাঠ বুয়েন্স এইরেসে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে তুলে নেয় ৪-১ গোলের স্মরণীয় জয়।
বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের এই মাসের দুটি ম্যাচে বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ককে ছাড়াই খেলেছে আর্জেন্টিনা। চোটের কারণে মেসি আছেন মাঠের বাইরে। ডান পায়ের অ্যাডাক্টর (ঊরুর) পেশির অস্বস্তিতে ভুগছেন ৩৭ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড। গত বছরের সেপ্টেম্বরেও দক্ষিণ আমেরিকা অঞ্চলের বিশ্বকাপ বাছাইয়ের দুটি ম্যাচে খেলতে পারেননি তিনি। একটিতে নিজেদের মাটিতে চিলির বিপক্ষে ৩-০ গোলে জিতেছিল আর্জেন্টিনা। অন্যটিতে কলম্বিয়ার মাঠে তারা হেরে গিয়েছিল ২-১ গোলে।
জাতীয় দলের হয়ে মেসির পারফরম্যান্স নিয়ে কোনো প্রশ্ন নেই। কিন্তু বয়স তো আর বসে থাকছে না! তাছাড়া, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চোটের সঙ্গে বেশ লড়াই চলছে তার। তাই ২০২৬ বিশ্বকাপের বেশি দেরি না থাকলেও তাকে নিয়ে কিছুটা হলেও শঙ্কা থাকছে।
ব্রাজিলকে উড়িয়ে দেওয়ার পর মেসির আগামী বিশ্বকাপে খেলার বিষয়ে আর্জেন্টিনার কোচ স্কালোনির কাছে প্রশ্ন রাখা হয়। তিনি স্পষ্ট কোনো জবাব দেননি, ‘আমরা দেখব কী হয়। এখনও অনেক সময় বাকি আছে।’
একই প্রসঙ্গ বারবার টেনে এনে মেসিকে বিব্রত না করার অনুরোধও রাখেন তিনি, ‘একটি করে ম্যাচ ধরে ধরে আমাদের এগোতে হবে। নইলে এই একই কথাই সারা বছর আমাদের বলে যেতে হবে। আমাদের উচিত তাকে নিষ্কৃতি দেওয়া। সময় হলে আমরা দেখব। সে যখন চাইবে, তখন নিজেই সিদ্ধান্ত নেবে। তাকে এটা (বিশ্বকাপে খেলা) নিয়ে পাগল করে ফেলবেন না।’
যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় অনুষ্ঠেয় সামনের বিশ্বকাপ চলাকালীন মেসির বয়স বেড়ে হবে ৩৯ বছর। এখন পর্যন্ত ১৯১ ম্যাচ খেলেছেন তিনি আর্জেন্টিনার জার্সিতে। তার নামের পাশে রয়েছে ১১২ গোল। তিনবারের বিশ্বকাপজয়ীদের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা তিনি।
খুলনা গেজেট/এএজে